নির্দিষ্ট জায়গা দেওয়ার পরেও ফুটপাতে হকাররা

78
0

সিলেট প্রতিনিধি :: সাব্বিত ইসলাম মুন্না

হকারদের নির্দিষ্ট জায়গা দেওয়ার পড়েও ফের নগরীর ফুটপাত দখল করে নিয়েছে ভাসমান ব্যবসায়ীরা।নগরীর অনেক ফুটপাত ছাপিয়ে সড়কে পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছে হকাররা। ফলে দূর্ভোগে পড়েছেন যাত্রী আর পথচারীরা।আদালতের নির্দেশে সম্প্রতি সিটি কর্পোরেশন ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ অভিযান চালালেও ফের হকাররা জুড়ে বসেছে ফুটপাতে। নগরীর বেশিরভাগ ফুটপাত ও অনেক সড়ক দখল করে হকাররা ব্যবসা চালালেও নিরব সিটি কর্পোরেশন। বারবার হকার উচ্ছেদে সিটি কর্পোরশেনে অভিযান আর অভিযান শেষ হওয়ার পরই পুণরায় ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়া নিয়ে ক্ষুব্দ নগরবাসী। এসব উচ্ছেদ অভিযান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। তবে এবার নগরবাসীর মনে প্রশ্ন উঠেছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) র হকার উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে। মেট্রোপলিটন পুলিশের সহযোগিতায় বারবার সিসিক বেদখল হওয়া ফুটপাতে অভিযান চালানো স্বত্বেও কেনো তা প্রতিবারই ফের হকারদের দখলে চলে যায় তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে নগরবাসী। কেবল উচ্ছেদ অভিযান নয়, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে সিসিক ও পুলিশের আন্তরিকতা ও নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।নগরীর শেখঘাটের বাসিন্দা মুন্না মিয়া বলেন, সম্প্রতি প্রায়ই দেখা যায় সিসিক মেয়র পুলিশের সহযোগীতায় হকারদের উচ্ছেদ করতে অভিযান চালাচ্ছেন। অভিযান শেষেই হকাররা ফের ফুটপাত দখল করে নিয়ে চালাচ্ছে নিজ নিজ ব্যবসা। এমন দৃশ্য দেখে ছোট বেলার ‘চোর পুলিশ’ খেলার কথা মনে পড়ে যায়।আজ (বৃহস্পতিবার) সরজমিন ঘুরে দেখা যায় নগরীর চৌহাট্টা, জিন্দাবাজার, আম্বরখানা, বন্দর বাজার, কোর্ট পয়েন্ট, সুরমা মার্কেটসহ নগরীর বিভিন্ন জায়গায় ফুটপাতসহ রাস্তার প্রায় অর্ধেকটা দখলে নিয়েছে হকাররা। এমনকি সিটি কর্পোরেশনের নব নির্মিত ভবনের প্রবেশ দ্বারের দুই পাশও হকারদের দখলে।এদিকে সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দেয়ালে ‌’হকার বসা নিষেধ’, ‘পথচারী চলাচলের জন্য উন্মুক্ত’ লেখা সাইনবোর্ড লাগানো থাকলেও এই সাইনবোর্ডের সামনেই ফুটপাত দখল করে নিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন হকাররা।নগরীর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আহসান হাবিব লিপন বলেন, হকারদের কারণে ফুটপাত রেখে রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হয়। কিছুদিন আগে সিটি কর্পোরেশন ফুটপাত দখলমুক্ত করলেও মনিটরিংয়ের অভাবে আবার তারা ফুটপাত সহ রাস্তার প্রায় অর্ধেকটা দখলে নিয়েছে। তাই যানজট তৈরি হচ্ছে। নিয়মিত মনিটরিং না থাকলে উচ্ছেদ করে লাভ হবে না। কারণ এখন উচ্ছেদ করা হলে একটু পরে আবার তারা দখল করে বসবে।পথচারী দীপালী দাশ বলেন, এগুলো লোকদেখানো উচ্ছেদ। তা না হলে উচ্ছেদ করার পরও হকাররা কি ভাবে পুণরায় ফুটপাত দখল করে বসতে পারে! উচ্ছেদের সাথে এইটাও ব্যবস্থা করতে হবে যাতে পুণরায় তারা আর বসতে না পারে। এতে করে নগরীতে অন্তত একটু নিরাপদে হাঁটা যাবে। বন্দর বাজার “সিটি মার্কেট” এর সামনের রাস্তায় বসে সবজি বিক্রি করছিলেন একজন হকার। তিনি বলেন, কি আর করবো বলেন, তিনি নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে ছিলেন কিন্তু বেচাকেনা হয়নি, তাই সামনে আসছেন। নির্দিষ্ট জায়গায় কাষ্টমার কম বা নাই বললেই চলে বলে জানিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here